রেশমি ঘন কালো চুল কার না ভালো লাগে। আর সেই চুল মালিক যদি আপনি হয়ে থাকেন তাহলেতো কথাই নেই।সুন্দর সুশ্রী চুল আপনাকে করে তুলবে আর্কষণীয়। চুল বংশগত কারণে নানারকম হয়। কারো পাহাড়ি ঝরনার মতো প্রবহমান, কারো ঢেউ খেলানো আবার কারো কারো কুঞ্চিত। কোঁকড়ানো চুল নিয়ে যারা খুব চিন্তিত কিংবা বিরক্ত তাদের জন্য বলা পৌরাণিক কাহিনীর দেবী কিংবা রাজ-রানীদের চুল কোঁকড়ানো হিসেবেই কল্পনা করা হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে হতাশ না হয়ে চুল আরো সুন্দর ও স্বাস্থ্যাজ্জ্বল কীভাবে করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়াই ভালো। অন্যান্য চুলের মতো কোঁকড়া চুলের সমস্যাগুলোও প্রায় একই। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুল পড়া, চুলের ডগা ফেটে যাওয়া, চুল লাল হয়ে যাওয়া, খুশকি ইত্যাদি ছাড়াও সহজে না শুকানোর জন্য ফাঙ্গাল ইনফেকশন কিংবা উঁকুন হওয়া- এসব সমস্যা রয়েছে। এসবের জন্য দায়ী করা যেতে পারে ক্রমবর্ধমান পলিউশন, সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি, ফাঙ্গাস, আয়রনযুক্ত পানি, অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্প, চুলের কালার ও ব্লিচ ইত্যাদি অনুপযোগী ব্যবস্থা এবং উপাদানগুলোকে। চুলের আগা ফাটলে বুঝতে হবে চুল ভীষণ শুষ্ক হয়ে পড়েছে।তখন ছেঁটে নিতে হবে। চুল পড়া বন্ধ করতে ২০০ গ্রাম নারকেল তেলের সঙ্গে ২০টি জবা ফুল, ২টি আমলকী, ২টি মেথি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এরপর মিশ্রণটি ছেঁকে বোতলে রেখে দিন। সপ্তাহে তিনদিন এ তেল মাথায় দেবেন। এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলবেন। একটি ডিম, এক চামচ মধু, একটি পাকা কলা, এক চামচ অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান। কখনো তোয়ালে দিয়ে চুল ঝাড়বেন না। ভেজা চুল আঁচড়াবেন না।আঁচড়ালেও বড় বড় কাঁটা চিরুনি দকরতে পারেন। যতটা সম্ভব চুলে ড্রায়ার, ল্যাকার, স্যুজ কম ব্যবহার করবেন। চুলের রুক্ষতা দূর করতে তিনদিন একটি প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করুন। ১ চা চামচ নারকেল তেল, ১ চা চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ চামচ গ্লিসারিন, ১ চা চামচ ভিনেগার, ১ চা চামচ শ্যাম্পু, একটি পাকা কলা ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগান। উঁকুন দূর করতে নারকেলের দুধ, পাতিলেবুর রস, নিমপাতা বাটা মিশিয়ে মাথায় লাগান, এক ঘণ্টা পর শ্যামঙু করে ফেলুন। খুশকি দূর করতে টকদই ২ চামচ, পাতিলেবুর রস (মাথার ত্বকে) লাগিয়ে রাখুন ৪০ মিনিট। চায়ের লিকার ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সাধারণ পুষ্টির অভাব থেকে শুরু করে হরমোনের জটিল ক্রিয়াকলাপের ব্যাঘাতও চুলের সমস্যার কারণ হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা ও শারীরিক সুস্ট্থতাই পারে স্বাস্থ্যাজ্জ্বল ঝলমলে চুল বজায় রাখতে। সময়মতো সুষম খাবার খাওয়া, পরিমিত শাকসবজি ও পানি খাওয়া সালাদ, ফল আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। পেটের সমস্যা, হজমে গোলমাল, লিভারজনিত সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পর্যাপ্ত ঘুম, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করুন। কোঁকড়ানো চুল সহজে শুকাতে চায় না বলে প্রতিদিন ভেজানো উচিত নয়। আর ধোঁয়ার পর ঠান্ডা খোলা বাতাসে শুকিয়ে নেবেন ভালো করে। মাঝেমধ্যে পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্টগুলো করিয়ে নিলে একটা বাড়তি যত্নের সুযোগ পাওয়া যায়। এভাবে যত্ন নিলে দেখা যাবে কোঁকড়ানো চুল আর কারো সমস্যা নয়। কোঁকড়ানো চুলের হেয়ার ড্যু বা স্টাইলিং ও কাটার ক্ষেত্রে বলা যায়, কোঁকড়ানো চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো স্ট্রেইট কাট, স্টেপস্ কাট কিংবা ইউ কাট। অতিরিক্ত ঘন হলে ভেতরে ভেতরে কাঁচি চালিয়ে ছেঁটে নিতে পারেন। হালকা মনে হবে। হেয়ার ড্যুর ক্ষেত্রে বলা যায়, সিম্পল হেয়ার বান, প্রেঞ্চ রোল বা র্যাফেল লুক করা যাবে। সুন্দর করে সেট করতে পারলে । অন্যান্য চুলের মতো হাইলাইট বা কালারও করিয়ে নিতে পারেন। কোঁকড়ানো চুল ম্যাড়ম্যাড়ে দেখালে ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে মধু ও ভিটামিন-ই ক্যাপসুল একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। ৪০ মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলবেন। কন্ডিশনার কয়েক মিনিট রেখে মাথা ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে একদিন কন্ডিশনারের বদলে মেয়োনেজ মেখে চুল ধুয়ে নেবেন। রোদে বেরোলে ছাতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করবেন। কোঁকড়ানো চুল প্রকৃতির দান। সঠিক পরিচর্যা ও শারীরিক সুস্থতাই পারে এর ঝলমলে উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে।