‘ফ্যাশনেবল জিন্সের প্যান্ট পরি’
তিশমা
জিন্সের প্যান্ট বেশি পরা হয়। ফ্যাশনেবল জিন্সের প্যান্ট পরতেই বেশি ভালো লাগে। জিন্সের প্যান্ট পরার অনেক সুবিধা আছে। পরতে আরামদায়ক, প্লাস সব ঋতুতেই পরা যায়।
পরে অফিস করতে পারেন স্বচ্ছন্দে। কোথাও বেড়াতে যাওয়া, ছোটখাটো পার্টি বা কনসার্টেও ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে জিন্স অনন্য। আসলে ক্যাজুয়াল এবং ফরমাল দু’ধরনেরই পোশাক হিসেবে জিন্সের প্যান্ট, শার্ট আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত। তবে মাঝখানে জিন্সের ব্যবহারে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। জিন্সের পরবর্তে ফরমাল প্যান্টই
তরুণ-তরুণীদের মনোযোগ ছিল বেশি। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই জিন্সের প্যান্ট, শার্ট আবারো ফিরে এসেছে ফ্যাশনে। অবশ্য এর বিশেষ কারণও রয়েছে। জিন্সের প্যান্টর কাপড়, শেইপ, ধরনেও একটা পরবর্তন এসেছে। ডাই করা স্ট্রেইট জিন্স এখন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
জিন্সের প্যান্ট, শার্ট বা স্কার্ট যে কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় তাকে ডেনিম বলা হয়ে থাকে। ১৯৫০ সাল থেকে জিন্সের নানা পোশাক বিশেষত প্যান্ট তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। তবে জিন্সের ব্যবহার তারও অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। ১৬০০ শতাব্দীতে ভারত থেকে দনগারি নামের একধরনের কাপড় রপ্তানি করা হতো যা দেখতে এখনকার ডেনিম কাপড়ের মতো ছিল। তবে দনগারি কাপড়ের ব্যবহার তখন ভিন্ন ছিল নাবিকেরা তাদের নৌকা এবং জাহাজের পাল হিসেবে এই কাপড় ব্যবহার করত। তবে সত্যিকার অর্থে ডেনিম কাপড়ের প্রস্তুত শুরু হয় ইটালির টুরিন শহরের চিয়েরিতে। এটা ১৪০০ শতাব্দীর কথা। জেনোয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে এই কাপড় বিক্রি করা হতো। জোনোয়েস নেভি তাদের পরনের প্যান্টের কাপড় হিসেবে তখন ডেনিম ব্যবহার শুরু করে। জিন্সের নাম এখান থেকেই এসেছে বলে অনেকের ধারণা। ব্লু ডি জেনসি, আই ই ব্লু অব জেওনা থেকে জিন্স নামটির জন্ম। ১৮৫০ সালে লেভি স্ট্রাউস এবং জ্যাকব ডেভিস সামনে পকেট দেয়া এবং রিভিট ব্যবহার করা জিন্স প্যান্টের বাজারজাত করে। এটি পরবর্তীতে Levi’s নামের বিখ্যাত জিন্স প্যান্টের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জিন্সের প্যান্ট বেশি বেশি ব্যবহার করত। ওই সময়ে ছেলেদের জিন্স প্যান্টের জিপার সামনের দিকে থাকলেও মেয়েদের জিন্স প্যান্টের জিপার থাকত ডান পাশে। পঞ্চাশের দশক থেকে উঠতি তরুণ-তরুণীদের মাঝে জিন্স ব্যাপক জনপ্রিয় হতে শুরু করে। কিন্তু এটা সমাজের রহ্মণশীল অনেকের চোখেই ভালো লাগেনি তাই সেই সময় আমেরিকা বা ইউরোপের অনেক থিয়েটার বা রেস্টুরেন্টেই জিন্সের প্যান্ট পরে ঢোকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ষাট এবং সওরের দশকে সেই জিন্সের প্যান্ট এবং অন্যান্য পণ্য সবচেয়ে ফ্যাশনেবল পোশাক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। GWG, Entrepreneur, importen and noted eccentric, Donald freeland of Edmonton, Alberta প্রভূতি কোম্পানিগুলো ডেনিম কাপড় দিয়ে নানা পণ্য প্রস্তুত করে জিন্সের বাজারকে বিস্তৃত করে। সববয়সী সব পেশার মানুষদের কাছে জিন্সের প্যান্ট-শার্ট জনপ্রিয় হয়। জিন্স সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পেলেও এখন কিছু কিছু দেশে জিন্সের পণ্য বিশেষ করে প্যান্টকে খাটো করে দেখা হয়। যেমন স্পেনে জিন্সের প্যান্ট Vaqueros নামে পরিচিত যার অর্থ রাখাল ছেলেদের পোশাক। একই অবস্থা চায়নাতেও। সেখানে জিন্সের প্যান্টকে বলা হয় Nivzaiku যার অর্থ রাখাল ছেলেদের প্যান্ট। তাই বলে জিন্স প্যান্ট বা জিন্সের অন্যান্য পণ্যের ব্যবহার কিন্তু একেবারেই কমে যায়নি বরং বেড়েছে। সময়ের সাথে সাথে জিন্সের প্যান্টের স্টাইলে পরবর্তন এসেছে। নানা স্টাইলের জিন্স প্যান্টের মধ্যে Ankle jeans, Original jeans, Overall, Relaxed Fit, Saggy, Slinkies ইত্যাদি অন্যতম। জিন্সের প্যান্টের খ্যাতনামা ব্র্যান্ড হিসেবে Levi’s, Jordache, Wrangler এই তিনটি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গত কয়েক বছরে Jordache আরো কিছু ফ্যাশনেবল জিন্স ব্র্যান্ডের জন্ম দিয়েছে তার মধ্যে Sergio valente, Sassoon, Gloria Vanderbilt, |